বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০১৩

আল্লামা সাঈদী রাজাকার দেলা সিকদার প্রসঙ্গ



  


২৬ মার্চ বাঙালির বীরত্ব গাথা অবিস্বরনীয় স্বাধীনতা দিবস। হাজার বছরের বাঙালির শ্রেষ্ট অহংকারের বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিতার শুভ উদ্বোধনের হৃদয় নিংড়ানো দিন। মুক্তিযুদ্ধের অবিনশ্বর চেতনার প্রতীক দিবস আত্বজিজ্ঞাসার স্ফুরন বিজয় দিবস বাঙালিকে চিরদিন রজনি গন্ধা ফুলের মত গন্ধ বিলিয়ে যাবে। স্বাধীনতা দিবস বাঙালির নিকট চিরদিন স্বতঃস্ফুর্ত মিলনমেলার মাহেন্দ্রক্ষণ হয়ে থাকবে চিরকাল। স্বাধীনতা দিবস আমাদের গর্ব, একতারা সেতুবন্ধন। এ বন্ধন শতাব্দীকাল ধরে অঠুট থাকুক প্রাণে প্রাণে ছন্দে ছন্দে, কবিতায় আর সনেটে গর্বে ও আনন্দে। বিজয়ের গর্বিত নন্দিত শৌর্যবীর্যের উল্লাস ছড়িয়ে পড়–ক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। বীরত্ব ব্যঞ্জক এবং বেদনা বিদুর স্বাধীনতা দিবস হৃদয়ে মনুষ্যত্বের গোলাপ ফুটায় জীবনের উচ্ছাস আর উচ্ছলতার আতিশর্যে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। ইতিহাসের স্বর্ণালী এ মাহেন্দ্রক্ষনে আনন্দে আর উচ্ছাসে হৃদয় যেন আকাশের নীলিমা স্পর্শ করতে চায়। হাজার বছরের বাঙালীর ইতিহাসে ৭১ দিয়েছে আমাদেরকে অভিসিক্ত করেছে বীরের মর্যাদায়। স্বাধীনতার জন্য বাঙালি যে এক সাগর রক্ত, ত্রিশ লক্ষ মানুষের জীবনের বিনিময়ে দিতে পারে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ তার উজ্জল দৃষ্টান্ত। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন আকাশ ছোয়া সম্মান আর মর্যাদায় বাঙালিকে পৃথিবীর ইতিহাসে করেছে অনন্য। একাত্তরের চেতনা অবিনাশি। আমাদের অহংকার ও গৌরবের এক ইতিহাস শ্রেষ্টদিন। এ দিনের অর্থ ও মাহত্ব ও গুরুত্ব বিশ্বজনীন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজও আমরা অনেক ক্ষেত্রে পরাধীন।  স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও আমরা সন্ত্রাসীরদের হাতে জিম্মি। এখনো পর্যন্ত আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত ধর্ষকদের হাত থেকে নিরাপদ নয়। আজও আমরা অনেক ক্ষেত্রে ৭১ এর মতো পাকিস্তানি হানাদারদের ন্যায় রাতের অন্ধকারে কিংবা দিবালোকে কোন আকস্মিক হামলার আতংকে থাকি। আজো আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত পুলিশের গুলিতে নৃশংস দিবালোকে রাজপথে মানুষ হত্যা  জনগনের বন্ধু পুলিশকে সাথে নিযে মানুষ হত্যাকারী আর কোন জাতি পৃথিবীতে আছে বলে আমার মনে হয়না, যা আইয়্যামে জাহিলিয়া কিংবা ৭১ এর নৃশংস ঘটনাকেও হার মানায়। আমার অবাক লাগে তারাই আবার দাবি করে এই দেশকে নাকি তারা স্বাধীন করেছে, তারাই নাকি প্রকৃত মুক্তিযুদ্বা কিংবা দেশপ্রেমিক। তারাই সংসদে এখন গলা ফাটিয়ে বলতেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। কিন্তু প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী কারা? বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর যারা সরাসরি হত্যা এবং  নারী ধর্ষনে লিপ্ত ছিলনা তাদেরকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করেছেন। সেই হিসেবে বাংলদেশে কোন আলেম কিংবা ইসলামী দল রাজাকারের তালিকায় পড়েনা।

স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের ভূমিকা ছিল তা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। আমরা বাঙ্গালী জাতির কাছে ভারত হয়ে থাকবে চিরকাল স্বরনীয,বরনীয়। কিন্তু তখনকার ইসলামী ভাবধারার ব্যক্তিরা ভারতের সেই সহযোগীতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেনি  কারন ভারতের সেই সহযোগতিার মাঝে বড় ধরনের স্বার্থ এবং বাংলাদেশীদের উপর আধিপত্য বিস্টতারের এক নীল নকশা ছিল। এবং তার ফলাফল আমরা এখনো ভোগ করছি। পাখীর মতো সীমান্তে বাঙ্গালী হত্যা বিএসএফের রূটিন। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিরূদ্ধে এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের অবস্থানকে অত্যন্ত সন্দেহের চোখে দেখেছিল তৎকালীন ইসলামী  থিংকার এবং রাজনীতিবীদরা। আর সেই জন্যই তারা রাজাকার হিসেবে অপরাধী ছিল। ( মানুষ হত্যা এবং ধর্ষনে লিপ্ত না থাকায় বঙ্গবন্ধুর কাছে তারা সাধারণ ক্ষমা প্রাপ্ত) ভারতের তৎকালীন সরকার প্রধান বিদেশেসফর করে করে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন চেয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতের প্রত্যেকটি আচরনই প্রমান করেছে ভারত কেন সে দিন বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

 সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে সীমান্তের প্রতি ইঞ্চি ভূমির উপর দেশের সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত করা আর সশস্ত্রবাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষন করা। দেশের এই দুই শক্তির উপর যখন ষড়যন্ত্রমূলক আঘাত আসে তখন নিঃসন্দেহে দাবি করা যায় যারা এ দেশের ভূমিকে জোরপূর্বক ব্যবহার করতে চায় । ভারতের এসব আচরন প্রমান করে ভারত বাংলাদেশকে সব সময় অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। আজ জাতির কাছে সুস্পষ্ট কেন ৭১-এ ইসলামী দলগুলো ভারতের সহযোগীতাকে কেন মেনে নেয়নি। আজ আমরা পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়েও ভারতের কাছে ৩৯ বছর যাবৎ পরাধীন কেন? বাংলাদেশের গরীব-দুঃখী মানুষের পেটে লাতি মেরে ভারত একচেটিয়ে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের সব টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে বৈধ কিন্তু বাংলাদেশের কোন চ্যাণেল ভারতে কেন চলতে পারবেনা? আমি মহান স্বাধীনতার মাসে ভারতের সেই স্বার্থনেষী সহযোগীতাকে অত্যন্ত ঘৃনার ভাষায় ধিক্কার জানাচ্ছি এবং প্রত্যাখ্যান করলাম। কেননা আজ আমাদের কাছে স্পষ্ট ভারত পাকিস্তান হটিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে আমাদের ভূখন্ডকে চূষে খাওয়ার জন্য। আমাদের উপর আধিপত্য বিস্তার এবং ইসলামী শক্তিকে দুর্বলকরার জন্যে।


মাও.ইউনুস সাঈদীর ছেলে আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে রসুল সিকদারের ছেলে দেলো সিকদার সাজিয়ে আজ অপমানিত করা হচ্ছে। শাহবাগীদেও চাপের মুখে বিচারক সাঈদীকে মৃত্যুদন্ডের রায় দিল। বিচারক মহোদয় বললেন-আমরা একাত্তরের সাঈদীর বিচার করেছি। আমরা বলব আপনি একাত্তরের দেলো সিকদারকে খুজে বের করে ফাসি দিন আর আমাদের কোটি জনতার প্রাণপ্রিয় নেতা আল্লামা সাঈদীকে স্বসম্মানে মুক্তি দিন।
বরং যারা এখন দাবি জানাচ্ছে তারাই হবে সেই সব যুদ্ধাপরাধী, যাদেরকে বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত ক্ষমা ঘোষনা করেনি।সম্প্রতি দিগন্ত টিভি’র এক টক শো’তে  বিএনপি সাংসদ পাপিয়া প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই প্রবাসীকল্যানমন্ত্রী সহ আওয়ামীলীগের কোন কোন রাজনীতিবীদ যুদ্ধাপরাধী তার তালিকাও দিয়েছে। কাদেরসিদ্দিকীতো সরাসরি বলেই যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীম.খাআলমগীর রাজাকার ছিলেন। মূলত রাজাকার কোন দল কিংবা গোত্র হিসেবে নয় বর্তমানে প্রত্যেকটি দলের মধ্যই রাজাকার ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। যদি তদন্ত করা হয় নিরপক্ষভাবে তাহলে বর্তমান কেবিনেট,পার্লামেন্টেও পাওয়া যাবে অনেক রাজাকার।

আমরাও চায় এ দেশে রাজাকারদের বিচার করা হউক। কিন্তু এখন শুধু চিহ্নিত করা হচ্ছে ইসলামী দল কিংবা ডানধারার রাজনীতিবদিকে। ইলেক্ট্রনিক্য মিডিয়া সহ পথ নাটকেও রাজাকার একটিং করা হচ্ছে পানজাবী-টুপিওয়ালাকে।  আমি সেই সমস্ত তথাকথিত বুদ্ধিজীবি এবং স্বার্থবাদী 
রাজনীতিবীদদের উদ্দেশ্যে বলতে চায়। আসুন আমরা হিংসা বিদ্ধেষ ভুলে গিয়ে, হত্যার রাজনীত বাদ দিয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চা করি। তবেই হবে স্বাধীনতার স্বার্থকতা। এই বাংলার সংগ্রামী জনতা বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য ৭১-এ ত্রিশ লাখ জীবন দিয়েছে,৫২-তে দিয়েছে ভাষার জন্যে জব্বার,রফিকরা তাজা রক্ত,৭৫-এ সিপাহি-জনতা একসাথে রাজপথে নেমেছিল বাকশাল বিরোধী আন্দোলনে,স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনেও এই দেশের জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের অধিকার আদায় করেছে। সুতরাং আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চায় এই বাঙালি বীরের জাত  কোন দেশ ও গণতন্ত্র বিরোধী আইন কিংবা ষড়যন্ত্র রুখে দাড়াতে সর্বদা প্রস্তত। আমি পরিশেষে বলতে চায়। আসুন-আমরা এই মহান স্বাধীনতার মাসে প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চা করার শপথ নিই। আমি এই স্বাধীনতার মাসে হাজার হাজার সালাম জানাই সেসব বীরদের যারা নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে এই বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য হাসিমুখে জীবন উৎসর্গ করেছেন।







1 টি মন্তব্য: